প্রাণীর প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও মানবিকতা কতটা ঝুঁকিতে?
নগরায়ণ, পরিবেশ ধ্বংস, অর্থনৈতিক লোভ এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রাণী ব্যবহারের মতো কর্মকাণ্ড মানব হ্দয়ের সহানুভূতি লোভ পাচ্ছে।
প্রাণীদের জীবনের মূল্য অনেক ক্ষেত্রে প্রবল নিষ্ঠুরতায় উপেক্ষিত হচ্ছে। মানুষ যত বেশি যান্ত্রিক ও স্বার্থপর হয়ে উঠছে, ততই প্রাণীর নিরাপত্তা, বাসস্থানের অধিকার, এমনকি বেঁচে থাকার সুযোগও কমে যাচ্ছে।
কুকুর-বিড়ালসহ গৃহপালিত প্রাণীকে অবহেলা, নির্যাতন বা অনাহারে ফেলে রাখা হয়। খাবার না দেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসা না করা, বা রাস্তায় ফেলে দেওয়া-- এসব আচরণ দেখায় যে মানুষের সহানুভূতি কমে যাচ্ছে।
পরিবেশ ধ্বংসসহ অনেক কারণে খাবার ও আশ্রয় না পেয়ে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে অসংখ্য প্রাণী। মানুষের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা প্রাণীদের অস্তিত্বের উপর সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে।
প্রাণীর প্রতি মানুষের সহানুভূতি আজ সত্যিই সংকটাপন্ন। আামাদের পশুর প্রতি আচরণ- শিক্ষা, সচেতনতা, মানবিকতা অতীব জরুরী।
প্রতিটি ছোট প্রাণের প্রতি দয়া ও দায়িত্ববোধই ভবিষ্যতে আরও শান্তিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে সদ্যজাত আটটি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে নিক্ষেপ করে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার পর পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত নিশি রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবন্ত একটি বিড়ালকে খাঁচায় আটকে পুড়িয়ে হত্যার ভিডিও মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। কয়েক মাস আগেও রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বিড়ালের চোখ তুলে নেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এসব ধারাবাহিক নৃশংসতা স্পষ্ট করে যে প্রাণীর প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও মানবিকতা গুরুতর হুমকির মুখে।
পশুদের প্রতি এ ধরনের হিংসাত্মক আচরণ সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত। এর পেছনে লুকিয়ে থাকা মানসিক বিকৃতি চিহ্নিত করা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া মানে শুধু প্রাণী রক্ষা নয়—মানুষের মানবিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা রক্ষা করা।
এসব নির্মম ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখায় যে, প্রাণীর প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও মানবিকতা কতটা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাণীর ওপর এই নিষ্ঠুরতা সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এ ধরনের আচরণের পেছনে থাকা মানসিক সমস্যাগুলো শনাক্ত করা এবং যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া শুধু প্রাণ বাঁচানোই নয়, মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করারও অংশ।
