উন্নয়নের নামে লুটপাট: দুর্নীতির ছোবলে বঞ্চিত প্রান্তিক মানুষ,
দুর্নীতির আখড়া বাংলাদেশ
৮ কোটি টাকা বিতরণে খরচ ৫৩ কোটি! দরিদ্রদের সহায়তা
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। প্রকল্পটির মোট বাজেট প্রায় ৬১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৩ শতাংশ। বাকি প্রায় ৫৩ কোটি টাকা পরামর্শক নিয়োগ, প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস ভাড়া, প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ ও অন্যান্য পরিচালন খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
90X728
প্রস্তাবিত প্রকল্পে মাত্র ৩০০ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের জন্য ৪৭৩ জন দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু পরামর্শকদের পেছনেই ব্যয়ের প্রস্তাব প্রায় ৩০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, অফিস পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খাতেও বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যে প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো নিয়ে আপত্তি তুলেছে এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও পরামর্শক ব্যয়ের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে বলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। কিন্তু যদি বাজেটের বড় অংশ প্রশাসনিক ব্যয়েই শেষ হয়ে যায়, তাহলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হবেন এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে।
অন্যদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, এটি দাতা সংস্থার কারিগরি সহায়তা প্রকল্প হওয়ায় বাজেটের অনেক বিষয় তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তবে জনস্বার্থে এমন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যেন প্রকৃত অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সরকার, দাতা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
দুর্নীতির জালে উন্নয়ন: গরিবের প্রাপ্য অর্থে বিলাসিতা ও অপচয়।
