শহীদ শরিফ ওসমান হাদি একটি বীরত্ত্বের নাম ।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি একটি বীরত্ত্বের নাম ।

ইনকিলাব মঞ্চ বাংলাদেশে উদীয়মান একটি নাগরিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব সামাজিক ইনসাফের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 



এই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে ওঠেন আমাদের শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র পরে আহ্বায়ক হিসেবে তিনি নির্ভীক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

 

 

ইনকিলাব মঞ্চ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নাগরিক রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই মঞ্চ ন্যায়, ইনসাফ, গণতন্ত্র জবাবদিহির রাজনীতিকে সামনে রেখে জনপরিসরে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি শুরু থেকেই স্বচ্ছতা জবাবদিহির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আসছে এবং দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিক স্বার্থ রক্ষার কথা বলছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আদর্শিক ভিত্তির কেন্দ্রে ছিল ইনসাফ বা ন্যায়বিচার। এই ন্যায়বোধ থেকেই সংগঠনটি নিপীড়িত, বঞ্চিত নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। অন্যায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব তাদের আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।

 আরো পড়ুন: 

শরীফ ওসমান হাদি একটি বীরত্ত্বের নাম

প্রাণীর প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও মানবিকতা কতটা ঝুঁকিতে?

পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি দেবে আট দল

আওয়ামী লীগের হামলায় এনসিপি নেতা আখতার হোসেন ও ডা. তাসনিম জারা

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ সংগঠিত রূপ নেয়। শহীদ আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিতে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে। শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ নাগরিক কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনটি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

এই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে ওঠেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র পরে আহ্বায়ক হিসেবে তিনি নির্ভীক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ভয়ভীতি রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে তিনি সত্য উচ্চারণ করেছেন এবং জনগণের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন থেকেছেন।

শহীদ হাদির রাজনীতি ছিল জনস্বার্থকেন্দ্রিক। ব্যক্তিগত সুবিধা বা ক্ষমতার লোভ নয়, বরং মানুষের মর্যাদা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল। নৈতিক দৃঢ়তা আদর্শিক সততা তাঁকে সমসাময়িক রাজনীতিতে ব্যতিক্রমী চরিত্রে পরিণত করে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জীবনসংকটের মুখেও তিনিজান দেব, জুলাই দেব না’—এই প্রত্যয়ে অটল ছিলেন। তাঁর এই দৃঢ়তা সাহস তাঁকে বীরত্বের প্রতীকে রূপ দিয়েছে।

ঢাকা- আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর উত্থান রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সেই সম্ভাবনা রক্তাক্ত অধ্যায়ে রূপ নেয়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে শোক প্রতিবাদের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত গভীর উদ্বেগ ক্ষোভ প্রকাশ করে। অনেকের কাছে তিনি শহীদ এবংঅমর সৈনিকহিসেবে স্মরণীয় হয়ে ওঠেন।

ঝালকাঠির নলছিটি থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। সাধারণ জীবনযাপন করেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন, যা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

সামগ্রিকভাবে, ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ শরিফ ওসমান হাদির সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর জীবন, নেতৃত্ব আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইনসাফ, সাহস গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক স্থায়ী শিক্ষামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত নেতা শরিফ ওসমান হাদি আর জীবিত অবস্থায় মাতৃভূমিতে ফিরতে পারলেন না। দেশ বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই নিবিড় চিকিৎসার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫) লালসবুজে মোড়ানো কফিনে করে তাঁর নিথর দেহ দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁর প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা।

নবীনতর পূর্বতন