জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’র নতুন জোট

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’র নতুন জোট

রোববার (২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫খ্রি:) বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয়তলার আবদুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামায়াত আমির। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সবাই মিলে আমরা একটি ভালো নির্বাচন করতে চাই। আমরা মূলত একটি নির্বাচনি সমঝোতা করেছি।

 


 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল অলী আহমেদ বীর বিক্রম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, খেলাফত মজলিশের আহমদ আব্দুল বাছেত, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনা, দরকষাকষি ও সমন্বয় প্রক্রিয়ার পর অবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন সমঝোতায় পৌঁছেছে আটটি রাজনৈতিক দল। এই সমঝোতা শুধু নির্বাচনী কৌশলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আগামী জাতীয় রাজনীতিতে একটি বৃহত্তর বিরোধী জোটের রূপরেখাও স্পষ্ট করছে। সমঝোতার বিস্তারিত, জোট সম্প্রসারণ এবং আসন্ন নির্বাচনী পরিকল্পনা জানাতে রোববার (২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই যুগপৎ রাজনৈতিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত কাঠামো, নতুন শরিকদের অন্তর্ভুক্তি এবং জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। আন্দোলনরত আট দলের পক্ষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই জামায়াতের আট দলীয় জোটে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও তিনটি রাজনৈতিক দল—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), এবি পার্টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জোট সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই সংযোজন জোটকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।

নতুন দল যুক্ত হওয়ায় আসন সমঝোতার কাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে। জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগে এনসিপির জন্য যে আসনসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমানে এনসিপি ২০ থেকে ২৫টি আসন পেতে পারে বলে আলোচনা চলছে। অপরদিকে এলডিপি ও এবি পার্টির জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে ছয়টি করে আসনের কথা ভাবা হচ্ছে, যদিও এবি পার্টির আসনসংখ্যা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।

আরো চমক:  
List of Online Bangla Newspapers 

বর্তমানে আট দলীয় জোটে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। নতুন তিনটি দল (তিনটি রাজনৈতিক দল—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), এবি পার্টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)) যুক্ত হলে জোটের আদর্শিক ও ভৌগোলিক বিস্তার বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন।

এদিকে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। 

  

ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ) আসনে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হককে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদেরের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে জামায়াত। ফলে এই আসনে বর্তমানে জামায়াতের প্রার্থী বিশিষ্ট সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান বাদ পড়তে পারেন।

এর আগে জামায়াত এই আসনে হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মুখলিছুর রহমানকে পরিবর্তন করে অলিউল্লাহ নোমানকে প্রার্থী করেছিল।

সব মিলিয়ে রোববারের সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, একাধিক ভবিষ্যত সম্মেলনে আরো ‘চমকপ্রদ’ ঘোষণা আসতে পারে, যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

নবীনতর পূর্বতন